রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লজ্জাশীলতা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লজ্জাশীলতা
🔸🔹🔸🔹🔸🔹🔸🔹🔸🔹

c32jph🔳 ১) আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَـٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنكُمْ ۖ وَاللَّـهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ

“হে ঈমানদারগণ,তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া হলে আহার্য রান্নার অপেক্ষা না করে নবীর ঘরে প্রবেশ করনা। তবে ডাকা হলে প্রবেশ কর। আর খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে চলে যাও। নিজেদের পক্ষ থেকে আলাপচারিতা শুরু করনা। নিশ্চয় এটা তার জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের থেকে লজ্জাবোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না।” (সূরা আহযাব: ৫৩)

🔳 ২) “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্দার অন্তরালের কুমারী মেয়ের থেকেও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোন কিছু অপছন্দ করলে আমরা তার চেহারা দেখে বুঝতে পারতাম।“ (বুখারী ও মুসলিম)
🔳 ৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “লজ্জা ঈমানের অংশ। লজ্জা পুরোটাই কল্যাণকর।” (সহীহ মুসলিম)
🔳 ৪) তিনি আরও বলেন: “লজ্জা ঈমানের অংশ। আর ঈমান থাকবে জান্নাতে। আর বেহায়াপনা আসে রুক্ষতা থেকে। আর রুক্ষতা থাকবে জাহান্নামে।” (তিরমিযী প্রমুখ। সহীহ-আলবানী)
🔳 ৫) “লজ্জা আর ঈমানকে একসাথে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে একটি চলে গেলে অপরটিও বিদূরিত হবে।” (হাকেম ও বাইহাকী। সহীহ আলবানী)
🔳 ৬) “লজ্জা কেবল বয়ে আনে কল্যাণ।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
🔳 ৭) “লজ্জাবোধ ও কম কথা বলা ঈমানের দুটি শাখা এবং লজ্জাহীনতা ও কথা-বার্তায় কৃত্রিমতা প্রকাশ করা মুনাফেকীর দুটি শাখা।” (মুসনাদ আহমদ প্রমূখ। ইমাম যাহাবী ও আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
🔳 ৮) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে খোলা জায়গায় গোসল করতে দেখে (এ বিষয়ে মানুষকে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য) মিম্বারে উঠলেন। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করার পর বললেন: আল্লাহ নিজেকে পর্দার অন্তরালে রাখেন। তিনি লজ্জা ও পর্দানশীলতাকে পছন্দ করেন। অতএব, তোমাদের কেউ গোসল করলে সে যেন পর্দা সহকারে করে। (মুসনাদ আহমদ প্রমুখ। আলবানী হাদীসটিকে মিশকাত কিতাবে সহীহ বলেছেন)।
🔳 ৯) “প্রতিটি ধর্মের কিছু নৈতিকতা আছে। আর ইসলামের নৈতিকতা হল লজ্জাশীলতা।” (ইব্ন মাজাহ। সনদ হাসান)।
🔳 ১০) “নবুওয়তের প্রথম পর্যায়ের যে সব কথা মানুষ লাভ করেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, লজ্জা না থাকলে যা ইচ্ছা তাই কর।” (সহীহ বুখারী)
🔳 ১১) “ঈমানের ষাটটি (অন্য বর্ণনানুযায়ী) সত্তরটির বেশি শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ হল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা তথা একথার স্বীকৃতি দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই। আর সর্বনিম্ন হল, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা হল ঈমানের অন্যতম একটি শাখা।” (সহীহ মুসলিম)
🔳 ১২) সালেম তার পিতা আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করে বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথাও যাওয়ার সময় দেখলেন, এক লোক তার ভাইকে লজ্জা করার ব্যাপারে তিরস্কার করছে। (অর্থাৎ তার ভাই লজ্জা করার কারণে তার ক্ষতি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সে তার ভাইকে বকাবকরি করছে)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ওকে ছাড়ো। কারণ লজ্জা তো ঈমানের শাখা।” (বুখারী ও মুসলিম)
🔳 ১৩) আনাস রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “কোন জিনিসে বেহায়াপনা যুক্ত হলে সেটা হয় নিকৃষ্ট। আর কোন জিনিসে লজ্জা যুক্ত হলে তা হয় সৌন্দর্য মণ্ডিত।” (তিরমিযী প্রমুখ। সনদ সহীহ)

☄💠☄💠☄💠☄💠☄💠
অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

আরও পড়ুন:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম চরিত্রের জন্য যেভাবে দুআ করেছেন

3 thoughts on “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লজ্জাশীলতা

  1. Pingback: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চরিত্র | কুরআন-সুন্নাহ আমার জান্নাতের পথ

  2. Pingback: ঝগড়া-বিবাদে ক্ষমা করা | কুরআন-সুন্নাহ আমার জান্নাতের পথ

  3. Pingback: কুরআন-সুন্নাহ আমার জান্নাতের পথ

আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s