স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করা (রিয়াদুস সালিহীন গ্রন্থ থেকে)

ÇÓÊæÕæÇ_ÈÇáäÓÇÁ_ÎíÑÇস্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করার বিবরণ

মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘আর তাদের (স্ত্রীদের) সাথে মিলেমিশে সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করো।’ (সূরা আন-নিসাঃ ১৯)

  মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ স্ত্রীদের মাঝে পুরোপুরি ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা তোমাদের সাধ্যাতীত। তোমরা মন-প্রাণ দিয়ে চাইলেও তা করতে পারবে না। কাজেই (খোদায়ী আইনের লক্ষ্য অর্জনের জন্যে এটুকুই যথেষ্ট যে) একজন স্ত্রীকে একদিকে ঝুলিয়ে রেখে অন্যজনের দিকে একেবারে ঝুঁকে পড়বে না। তোমরা যদি নিজেদের কাজকর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করো এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো, তাহলে আল্লাহ তো ক্ষমাশীল ও দয়ামায়’। (সূরা আন নিসাঃ ১২৯)

    ২৭৩. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আমার কাছ থেকে মেয়েদের প্রতি সদাচারণ করার শিক্ষা গ্রহণ করো। কেননা, নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়গুলোর মধ্যে ওপরের হাড়টাই সবচেয় বাঁকা। অতএব, তুমি যদি তা সোজা করতে চাও, তবে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনাই রয়েছে। আর যদি ফেলে রাখো, তবে বাঁকা হতেই থাকবে। কাজেই মেয়েদের সাথে সদ্ব্যবহার করো।   (বুখারী ও মুসলিম)

    বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছেঃ মেয়েরা পাঁজরের বাঁকা হাড়ের মতো। তুমি তা সোজা করতে গেলে ভেঙে ফেলবে। অতএব, তুমি তার কাছ থেকে কাজ করতে চাইলে এ বাঁকা অবস্থায়ই করবে। মুসলিমের অপর এক বর্ণনা এরূপঃ মেয়েদের পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বার সৃষ্টি করা হয়েছে। সে কখনোই এবং কিছুতেই তোমার জন্য সোজা হবে না। তুমি যদি তার কাছ থেকে কাজ নিতে চাও, তবে এ অবস্থায়ই তা নিয়ে নাও। যদি তাকে সোজা করতে করতে যাও, তবে ভেঙে ফেলবে। আর এ ভাঙার অর্থ দাঁড়াবে বিচ্ছিন্ন হওয়া। অর্থ্যাৎ তালাক দেয়।

     ২৭৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যাম‘আ (রা) বর্ণনা করেনঃ একদিন তিনি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুতবা দিতে শুনলেন। তিনি তাঁর খুতবায় মেয়েদের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি তাদের সম্পর্কে কিছু উপদেশ দিলেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাঁকে বাদী-দাসীর ন্যায় প্রহার করে। দিনের শেষে সে আবার তার সাথে শয়ন করে (অর্থ্যাৎ যৌন সঙ্গম করে)। এরপর তিনি বাতকর্মের কারণে লোকদের হাসা-হাসির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বললেনঃ যে কাজ তোমাদের মধ্যকার যে কোন ব্যক্তি নিজেই করে, তার জন্য সে নিজেই কেন হাসবে? (বুখারী ও মুসলিম)

      ২৭৫. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলমান পুরুষ যেন কোন মুসলমান নারীর প্রতি হিংসা-দ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ না করে; কেননা তার কোন একটি বিষয় তার কাছে খারাপ মনে হলেও অন্য একটি বিষয় তার পছন্দ হবেই। (অর্থ্যাৎ তার দোষ থাকলে গুণও থাকবে)।  (মুসলিম)

     ২৭৬. হযরত ‘আমর ইবনে আহওয়াস আল-জুশাম্মী (রা) বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় হজ্জের ভাষণ (খুতবা) শুনেছেন। সে ভাষণে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। এবং লোকদেরকে ওয়াজ নসিহত করার পর বললেনঃ তোমরা মেয়েদের প্রতি সদাচরণ করো; কেননা তারা তোমাদের হেফাযতে রয়েছে। তোমরা তাদের কাছ থেকে (বৈধ) সুযোগ-সুবিধা লাভ ছাড়া অন্য কিছুর অধিকারী নও। অবশ্য তারা যদি প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়, তবে তোমাদের বিছানা থেকে তাদের আলাদা করে দাও; এমনকি, প্রয়োজনে তাদেরকে প্রহার করো; কিন্তু কঠোরভাবে নয়। (এরপর) যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের জন্য ভিন্ন পথ অনুসরণ করো না। সাবধান! তোমাদের স্ত্রীদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার হলো তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের অপছন্দীয় লোকদের দ্বারা তোমাদের বিছানা কলুষিত করবে না এবং তাদেরকে তোমাদের বাড়িতে ঢোকার অনুমতি দেবে না। তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলোঃ তোমরা তাদের পানাহারের ব্যাপারে ভাল ব্যবস্থা করবে, তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। (তিরমিযী)

     ২৭৭. হযরত মুআবিয়া ইবনে হাইদাহ (রা) বর্ণনা করেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো ওপর তার স্ত্রীর কি অধিকার রয়েছে?’ তিনি বললেনঃ তুমি যখন আহার করবে, তাকেও আহার করাবে, তুমি যখন (পোশাক) পরিধান করবে, তাকেও পরিধান করাবে, কখনো তার চেহারা কিংবা মুখমণ্ডলে আঘাত করবে না, কখনও তাকে অশ্লীল ভাষায় গাল দেবে না এবং ঘরের ভেতর (অর্থ্যাৎ বিছানা) ছাড়া তার থেকে আলাদা হয়ো না।  (আবু দাউদ)

    ২৭৮. হযরত আবু হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণ সবচাইতে উত্তম, ঈমানের দৃষ্টিতে সে-ই পূর্ণাঙ্গ মুমিন। তোমাদের মধ্যে সেইসব লোক উত্তম, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম।  (তিরমিযী)

      ২৭৯. হযরত ইয়াস ইবনে আবদুল্লাহ (রা)-এর বর্ণনা মতে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর বাঁদীদেরকে (স্ত্রীদেরকে) মারধোর করো না। একদা হযরত উমর (রা) রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে অভিযোগ করলেনঃ স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের ওপর দৌরাত্ম্য শুরু করেছে। এরপর তিনি স্ত্রীদের প্রহার করার অনুমতি দিলেন। ফলে অনেক মহিলা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজনের কাছে এসে তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে লাগল। এ অবস্থা দেখে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের অনেক মহিলা এসে মুহাম্মদের পরিবারের কাছে তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এসব স্বামীরা কিছুতেই ভালো লোক নয়। (আবু দাউদ)

      ২৮০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ গোটা দুনিয়াই সম্পদে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হলো পূণ্যবতী স্ত্রী।  (মুসলিম)

(সংগৃহীত)

2 thoughts on “স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করা (রিয়াদুস সালিহীন গ্রন্থ থেকে)

  1. আমাদের স্ত্রীদেরকে বাকা হাড় দিয়ে বানানু হয়েছে এখন তারা বাকা হয়ে চলবে । আমার প্রশ্ন- বাকা হয়ে চলা টা কি তাদের জন্য সাবাবিল না অসাবাবিক ?

আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s