corona virus করোনা ভাইরাস (শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত এক ধরণের সংক্রামক ব্যাধি)

corona virus করোনা ভাইরাস কী?

#Coronavirus এমন একটি ভাইরাস যা আপনার নাক, সাইনাস বা গলার উপরের অংশের সংক্রমণ ঘটায়। এটি একটি জীবন নাশকারী ভাইরাস। ২০১২র সেপ্টেম্বরের এই ভাইরাস সর্ব প্রথম সনাক্ত করা হয়।

 coronavirus কয়েক প্রকার রয়েছে। এখানে স্মরণীয় যে, অন্যান্য virus এর মত সব প্রকার coronavirus বিপজ্জনক নয়। তবে, বেশ কিছু coronavirus রয়েছে যা খুবই বিপজ্জনক যেমন- MERS এবং SARS.

MERS হল- Middle East respiratory syndrome (MERS) বা মধ্যপ্রাচ্যের শ্বাসযন্ত্রের সিন্ড্রোম নামে পরিচিত ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি সৌদি আরবে বেশ কিছু লোক মারা গেছে, যার মধ্যে বাংলাদেশী একজন ডাক্তারও রয়েছে।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এর আগেও সৌদি আরবে বেশ কিছু লোক মারা যায়। এই ভাইরাস সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যর বেশ কিছু দেশে মারাত্বক ভাবে সংক্রমিত হয়। তাই, এই এলাকার লোকেদের জন্য এটা খুবই বিপজ্জনক একটি ভাইরাস।

SARS ঠিক MERS এর মত একটি মারাত্বক ভাইরাস, যা শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ ঘটায়। তাই এর নামকরণ করা হয়েছে- Severe Acute Respiratory Syndrome (SARS) অর্থাৎ গুরুতর তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সিন্ড্রোম (SARS). যার কারণে ২০০৩ সালে বেশ কিছু লোক মারা যায়।
এই এই দুইটিই (MERS এবং SARS)হল- coronavirus দ্বারা সৃষ্ট সবচেয়ে বিপজ্জনক রোগ।

#coronavirus এর উৎপত্তি বা উৎস কি?
Coronaviruses প্রথম 1960 সালে সনাক্ত করা হয়েছে, কিন্তু এই coronavirus কোথা থেকে আসে বা এর উৎস কি বিজ্ঞানীদের কাছে তা’ আজও একটি অজানা ও বিস্ময়ের বিষয় অর্থাৎ এর উৎপত্তি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা কিছুই জানে না। বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের নামকরণ করেছেন এর গঠন “crown-like shape” মুকুট মত আকৃতি থেকে। coronavirus দ্বারা প্রাণী এবং মানুষ উভয় আক্রান্ত হয়।

#কিভাবে ছাড়ায় এই ভাইরাস?

(cold-causing viruses) অন্যান্য সংক্রমিত ভাইরাস ঘটিত রোগের মত এই ভাইরাসও একের দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

সাধারণত এটা থাকে পরিবেশে পানি বাতাসে। তারপর উপযুক্ত ও অনুকুল পরিবেশে মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী দেহের শ্বাসযন্ত্রে আক্রমন করে।
@ সাধারণত এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাসে অন্য জন সংক্রমিত হতে পারে যেভাবেঃ

  • – সংক্রামিত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে
  • – সংক্রামিত ব্যক্তির হাত বা মুখ স্পর্শ করলে
  • – সংক্রামিত ব্যক্তির দরজার হাতল স্পর্শের মাধ্যমে
  • – সংক্রামিত ব্যক্তির পোশাকের ও ব্যবহৃত জিনিষ পত্রের মাধ্যমে

প্রায় সবাই তার জীবনে অন্তত একবার বিশেষ করে ছোট অবস্থায় অর্থাৎ বাচ্চা বয়সে এই coronavirus সংক্রমিত হয়। আর এই হিসাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, যেখানে শরৎকাল এবং শীতকালে এ coronaviruses এর প্রাদুর্ভাব বাড়ে। তাই, এ সময় যে কেউ এই coronavirus আক্রান্ত হতে পারে।

#Coronavirus এর সাধারণ লক্ষণঃ
Coronaviruses এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ যে উপসর্গ বা লক্ষণগুলো পরিলক্ষিত হয় তা’ হল-

  • – সর্দি
  • – কাশি
  • – গলা ব্যাথা
  • – জ্বর
  • – বুক ব্যাথা
  • – ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস
  • – নিউমোনিয়া এর উপসর্গ
  • – তীব্র শ্বাসকষ্ট
  • – এবং কখনো কখনো জ্বর সহ শ্বাসযন্ত্রের উপরের অন্য কোন অংশের সংক্রমণ
  • – কখনো কখনো অন্যান্য cold-causing virus যেমন rhinovirus এ সংক্রমিত রোগের মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • – কখনও ডায়রিয়া ও কিডনি ফেইলিওর হতে পারে।

#কিভাবে বুঝবেন আপনি coronavirus এ আক্রান্ত হয়েছেন?

  • এ জন্য আপনি যখন ঠাণ্ডা-জ্বর বা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন সাথে থাকে শ্বাসকষ্ট তখন
  • – ল্যাব এ নাক এবং গলা ও রক্তের কালচার (culture) টেস্ট করিয়ে এ বিষয়ে জেনে নিতে পারেন।
  • – এবং এতে আপনি এটাও নিশ্চিত হতে পারবেন আপনি কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।

#Coronavirus এর চিকিৎসা বা প্রতিকারঃ
যেহেতু Coronavirus জন্য কোন টীকা এখনও আবিস্কার হয়নি। তাই এ থেকে আপনাকে নিরাপদে থাকতে হলে যা যা করণীয়ঃ

  • – সাধারণত ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলতে হবে এবং তা’ এড়াতে যা যা করার তাই করতে হবে। যেমন,
  • – পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সাবান এবং হাল্কা গরম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। সাথে সাথে হাত শুকনা ও পরিস্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
  • – নিজের (অপরিষ্কার)হাত- নাক, মুখ ও চোখ থেকে দূরে রাখতে হবে।
  • – আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে (ঘনিষ্ঠ ভাবে মেলামেশা যাবে না)

– যদি কেউ coronavirus বা cold-causing virus এ আক্রান্ত হন; সাথে সাথে

  • – ক) সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন
  • – খ) তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ (পান) করুন
  • – গ) গলা ব্যথা বা জ্বরের জন্য প্রাথমিক ভাবে ibuprofen or acetaminophen(Panadol, paracetamol) tab. মুখে বেশী বেশী পানি সহ গ্রহণ করুন।
  • – ঘ) গলা ফোলা বা ব্যথার জন্য humidifier or steamy shower ব্যবহার করতে পারেন।
  • – ঙ) এর পর দ্রুত ডাক্তার এর পরামর্শ নিন।

• জেনে রাখবেন, আপনার সচেতনতা পারে আপনাকে অনেক কঠিন ও মারাত্বক অবস্থা থেকে নিরাপদে রাখতে (ইনশাআল্লাহ্‌)। তাই, যে কোন অসুস্থতায় অবহেলা না করে কার্যকরী ব্যহস্থা গ্রহণ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখুন। আমীন!
সূত্রঃ WHO, Web MD, ARAB NEWS, Guardian and UAE-MoH

ধন্যবাদঃ ডাঃ এম এম আব্দুল হালিম।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s