সন্তানের কাছে বাবা-মা’র একটি চিঠি

সন্তানের কাছে বাবা-মা’র একটি চিঠি  

ত হু রা বে গ ম

প্রিয় সন্তান,

আমি যখন বার্ধক্য উপনীত হবো…আমি আশা করবো..”তুমি আমাকে বুঝবে এবং আমার সাথে ধৈর্যশীল হবে।”

ধরো আমি যদি হঠাৎ থালা ভেঙ্গে ফেলি,অথবা টেবিলে স্যুপ ফেলে নষ্ট করি…..কারণ আমি আমার দৃষ্টিশক্তি হরিয়ে ফেলছি….আশা করি তুমি আমার প্রতি চিৎকার করবে না

বয়স্ক মানুষ খুব স্পর্শকাতর……….

তুমি যখন চিৎকার করে কথা বলো তখন তারা নিজের কাছে খুব ছোট হয়ে যায় , অসহায় আর অপরাধী মনে করে নিজেকে।।

যখন আমার শ্রবণশক্তি শেষ হয়ে আসছে…এবং আমি শুনতে পাচ্ছি না তুমি কী বলছ!!

তোমার তখন আমাকে “বধির” বলা উচিৎ নয়।
দয়া করে তুমি পুনরায় বলো অথবা লিখে দেখাও

আমি দুঃখিত বাবা………….আমি বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি……..আমার পা দুর্বল হয়ে আসে

আমি মনে মনে চাই তোমার সে ধৈর্য থাকবে আমাকে দাঁড়াতে সাহায্য করার জন্য।
যেভাবে আমি তোমার পাশে ছিলাম, যখন তুমি ছোট ছিলে……… হাঁটতে শিখছিলে পা পা করে….

আমার কথা শুনো…….

যখন আমি অসহায়ের মত তোমার নিকট কথা বলবো…. ভাঙা রেকর্ডের মতো ….

আমি চাইবো তুমি শুধু আমার কথাটুকু শুনবে..
আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করো না…. অথবা আমার কথা শুনে বিরক্ত হয়ো না……….

তোমর মনে আছে??

তুমি ছোট থাকতে আমার কাছে একটা বেলুন চেয়েছিলে!!!!!
সেটা না পাওয়া পর্যন্ত তুমি বারবার আমাকে সেটাই বলতে….. সারাক্ষণ জিজ্ঞেস করতে.. “কখন দেবে কখন দেবে…………..”

এবং আমার গন্ধ সহ্য করো
বৃদ্ধের মতই আমার গন্ধ হবে…..
এজন্য….

দয়া করে আমাকে গোসল করার জন্য জোর করোনা
আমার শরীর দুর্বল
ঠাণ্ডায় বয়স্ক মানুষেরা খুব তাড়াতাড়ি অসুস্থ হয়ে পড়ে….
আমার আশা আমি তোমকে অমার্জিত করি নি

তুমি যখন ছোট ছিলে…আমাকে তোমার পেছনে দৌড়াতে হতো… কারণ তুমি গোসল করতে চাইতে না
আমি যখন সহজে রেগে যাই..
এটা বয়স্ক হবার একটা সাধারণ দোষ,

বার্ধক্য আসলে তুমি নিজেই বুঝতে পারবে।।
আর যখন তোমার অলস সময় থাকবে

আমি আশা করবো তুমি আমার সাথে একটু সময়ের জন্য হলেও কথা বলো……..
আমি এ সময়ে সর্বদা একাকীত্বে ভুগি এবং কথা বলার মানুষ পাই না ।
আমি জানি তুমি ব্যস্ত থাকো কাজের মাঝে..
যদিও তুমি আমার কথায় ও গল্পে আনন্দ না পাও..
আমার জন্য কিছু সময় রেখো

যখন সময় আসবে আমি অসুস্থ হয়ে পড়বো এবং
বিছানায় শায়িত হয়ে পড়বো
তুমি কী আমার যত্ন করার মতো ধৈর্য রাখবে??

আমি আশা করি তুমি এটুকু ধৈর্য রাখবে জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে আমাকে দেখে রাখার জন্য…

আমি হয়ত আর বেশিদিন বেঁচে থাকব না,
………..
যাই হোক………..
যখন আমার মৃত্যু আসবে..
তুমি কী আমার হাত ধরে থাকবে না; যা আমাকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য সাহস যোগাবে।

আমি মহান আল্লাহ দরবারে প্রার্থনা করব, তিনি যেন তোমার প্রতি দয়া করেন…

এবং তোমাকে একজন সফল মানুষ হিসেবে কবুল করে নেন…

এবং তাঁর ভালাবসা লাভে তুমি ধন্য হও।

কারণ তুমি তোমার বাবা-মাকে ভালবেসেছিলে………
তোমার যত্ন ও সহমর্মিতার জন্য ধন্যবাদ………
আমরা তোমাকে ভালোবাসি।।।।

আরও ভালোবাসার সাথে……

-বাবা-মা ।

(সম্পাদনায় আব্দুল্লাহিল হাদী,  সামান্য পরিবর্তীত)

উৎস: সোনার বাংলাদেশ ব্লগ

আরও পড়ুন: পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার

3 thoughts on “সন্তানের কাছে বাবা-মা’র একটি চিঠি

  1. bai afnader onek onek dannobad.bai afnara amar kas take kakono harea jabena to.afnader kastake amar onek kisu janar ase.afnader mobile number ta pate pari 00971555165626 eta amar number.

  2. পড়ে খুব ভাল লাগো। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s