দুটি ঘটনার তথ্য উদ্ঘাটন

ডাউনলোড ( পিডিএফ)  ডাউনলোড (ওয়ার্ড)

প্রথম ঘটনা:

 শাইখ আহমদের স্বপ্ন বা একটি ‘জরুরী বার্তা’ ফটোকপি করে বিতরণ সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন

‘একটি জরু€রী বার্তা’ নামে একটি বিজ্ঞাপন বহুদিন থেকে মুসলিম সমাজে প্রচারিত হয়ে আসছে। বিজ্ঞাপনটির বিষয় বস্তু হল- মদীনা মুনাওয়ারার অজ্ঞাত পরিচয় জনৈক শাইখ আহমদের স্বপ্ন যোগে প্রাপ্ত একটি “অছিয়ত নামা”।

দুর্বল ঈমানের কিছু সংখ্যক মুসলমান এতে বিশ্বাস করে ভয়-ভীতি ও আশা-আকাখা সহকারে উক্ত ‘অছিয়ত নামা’ ছাপিয়েছে বা ফটো কপি করে তা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক হারে বিলি করেছে এবং করছে। কেননা উক্ত অছিয়ত নামা সরাসরি মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রাপ্ত বলে দাবী করা হয়েছে। অছিয়তে রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি এই অছিয়ত নামা ছাপিয়ে মানুষের মাঝে বিতরণ করবে সে আমার শাফআত পাবে, জান্নাতের অধিবাসী হবে, ব্যবসায় প্রচুর লাভবান হবে, ঋণ গ্রস্থ ব্যক্তি ঋণ মুক্ত হবে। অপরদিকে এটাকে ছাপাতে গড়িমসি করলে তার মৃত্যু হবে, অবিশ্বাস করলে কাফের হয়ে যাবে, আল্লাহ্‌র রহমত থেকে বঞ্চিত হবে, আমার শাফাআত থেকে মাহর€ম হবে।” শাইখ আহমদ আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে বলেন এটি যদি মিথ্যা হয় তবে তার মৃত্যু যেন কাফেরের মৃত্যু হয় .. .. .. ইত্যাদি।

প্রকৃত পক্ষে এটি একটি মিথ্যা, জাল ও বানোয়াট ‘অছিয়ত নামা’। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে সাধারণ মানুষের ঈমান আকিদাকে ধ্বংস করার জন্য এটা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সাথে ইসলাম তথা কুরআন-হাদীসের দূরতমও কোন সম্পর্ক নেই। এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) এর উপর সম্পূর্ণ রূপে মিথ্যা রোপ করা হয়েছে। অথচ তিনি এরশাদ করেন:

“যে ব্যক্তি ইŽছাকৃত ভাবে আমার উপর মিথ্যা রোপ করে সে যেন নিজ বাসস্থান জাহান্নামে নির্দিষ্ট করে নেয়। (বুখারী, মুসলিম)

ইসলাম সম্পর্কে সামান্য জ্ঞানের অধিকারী একজন সাধারণ বিবেক সম্পন্ন ব্যক্তি উক্ত অছিয়ত নামা সামান্য খেয়াল সহকারে পাঠ করলেই তার মিথ্যাবাদীতা স্পষ্টভাবে ধরতে পারবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে বেশ কিছু সংখ্যক সরলমনা মানুষ উক্ত মিথ্যা অছিয়ত নামার স্বীকার হয়ে নিজেদের দূর্বল ঈমানের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তাই তাদের ঈমানকে তরতাজা করার জন্য উক্ত বিষয়ের পর্দা উন্মোচন করা সমীচীন মনে করছি।

আল্লাহ্‌ তা’আলা উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য ইসলাম ধর্মকে একমাত্র জীবন ব্যবস্থা রূপে মনোনীত করেছেন। উহার প্রতিটি স্তরকে পর্ণতা দিয়েছেন। এবং তাঁর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) সে ইসলামকে ২৩ বছরের জীবনে পরিপূর্ণ রূপে বাস্তবায়িত করেছেন। অতঃপর স্বীয় উম্মতকে স্বŽছ ও স্পষ্ট দলীলের উপর রেখে গিয়েছেন, যার রাত ও দিন বরাবর। এর মধ্যে গোপনীয়তা বা রাখ ঢাক বলতে কিছু নেই। এরশাদ হচ্ছে:

(اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام ديناً )

“আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা মায়েদাহ্‌ – ৩)

চৌদ্দ শত বছর পরে এই অজ্ঞাত অছিয়ত নামায় এমন উদ্ভট দাবী করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি উহা নিজে পড়ে অপরকে পড়তে দিবে সে তার জায়গা জান্নাতে করে নিবে, আর যে এর বিপরীত বলবে সে রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) এর শাফাআত বঞ্চিত হবে। যেন ইহা পবিত্র কুরআনের চাইতে উত্তম এবং মর্যাদা পূর্ণ। এ কথাটি মিথ্যা হওয়ার জন্য এ জ্ঞানটুকুই যথেষ্ট যে, কেহ যদি পবিত্র কুরআন নিজে পাঠ করে এবং অপরকে পড়তে দেয় বা উহার হাজার হাজার কপি মানুষের মাঝে বিতরণ করে তবু সে জান্নাত তো দরের কথা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত উহার প্রতি ঈমান এনে সে অনুযায়ী আমল না করবে। এমনি ভাবে কেহ এর (কুরআনের) প্রতি ঈমান রেখে শরীয়তের অনুসারী হওয়ার পর উহার কোন কপি যদি বিতরণ নাও করে বা অপরকে পড়ে না শোনায় তবুও তো সে কিয়ামত দিবসে রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) এর শাফাআত থেকে বঞ্চিত হবে না।

সুতরাং এই একটি মিথ্যা কথাই সন্দেহহীন ভাবে সমপর্ণ অছিয়ত নামাটি বানোয়াট এবং উহার লিখক পথভ্রষ্ট হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। যদিও লিখক তার সত্যতার জন্য হাজার বার শপথ করে না কেন। কেননা ইবলিসও মিথ্যা শপথ করে আমাদের পিতা-মাতা আদম-হাওয়া(আঃ)কে জান্নাত থেকে বের করেছিল।

তাছাড়া এই অছিয়ত নামা মিথ্যা হওয়ার আরও কয়েকটি প্রমাণ হল: শেখ আহমদের দাবী মোতাবেক রাসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে ৭ হাজার লোক কাফের অবস্থায় মারা যাওয়ার সংবাদ দিয়েছেন। এ সংবাদটি অদৃশ্য বিষয় সংক্রান্ত আর সন্দেহাতীত ভাবে তাঁর(সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম) ওফাতের পর অদৃশ্য বিষয়ে কোন সংবাদ সমপর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং এটা কিভাবে সম্ভব যে তিনি মৃত্যুর পর গায়েব সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন ? অথচ জীবদ্দশাতেই এরূপ দাবী তিনি কখনো করেন নি? আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন:

( قل لا أقول لكم عندي خزائن الله و لا أعلم الغيب )

“বলুন (হে রাসুল) আমি দাবী করি না যে আমার কাছে আল্লাহ্‌র ভাণ্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে কোন জ্ঞানও রাখি না।” (সরা আনআম – ৫০)

তিনি আরও বলেন:

( قل لا يعلم من في السماوات والأرض الغيب إلا الله)

“বলুন (হে নবী) নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে আল্লাহ্‌ ব্যতীত কেউ গায়েবের কোন খবর জানে না।” (সূরা নমল -৬৫)

অছিয়ত নামায় আরও বলা হয়েছে: এটি ছাপিয়ে বিতরণ করলে- ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি ঋণ মুক্ত হবে, ব্যবসায় প্রচুর লাভবান হওয়া যাবে। এটিও একটি কল্পিত কথা। কেননা উক্ত উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন ছাপিয়ে বিলি করলেও তা পূর্ণ হবে এ রকম কোন নিশ্চয়তা নেই। আসলে এ ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে আল্লাহ্‌ বিমখ করার জন্য এ ধরনের পন্থা অবলম্বন করেছে। একমাত্র আল্লাহ্‌ই যে সকল কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক, যাবতীয় অভাব মোচন কারী, ঋণমুক্ত কারী, আরোগ্য দানকারী তথা সকল ক্ষমতার অধিকারী – কোন কিছু চাইতে হলে বা আশা করলে যে একমাত্র তাঁর দরবারেই তা করতে হবে – এই বিশ্বাসকে বিনষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে উক্ত বানোয়াট অছিয়ত নামার অবতারণা করেছে। আমরা ধোঁকাবাজি ও শয়তানের ষড়যন্ত্র থেকে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

অছিয়ত নামায় বলা হয়েছে: এটা ৩০ খানা ছাপিয়ে বিতরণ করলে ১৪দিনের মধ্যে ফল পাওয়া যাবে। আর ছাপাতে গড়িমসি করলে তার মৃত্যু হবে। – নাউযুবিল্লাহ্‌– কুরআন-হাদীস সম্পর্কেও তো এরূপ কোন কথা বলা হয়নি? এর চাইতে বড় ধোঁকাবাজি আর কি হতে পারে ! কেননা অসংখ্য মানুষ এটা ছাপিয়ে বিলি করেছে, কিন’ কারো কোন উপকার হয়েছে, এরকম কোন প্রমাণ তো পাওয়া যায় নি? আবার অসংখ্য মানুষ এটাকে সমর্থন না করে মৃত্যুবরণ করেছে তারও তো কোন সংবাদ পাওয়া যায় নি?

সম্মানিত পাঠক! আমরা আল্লাহ্‌কে সাক্ষ্য রেখে বলছি -এটি সমপর্ণ মিথ্যা একটি অছিয়ত নামা। চৌদ্দ শত বছর পর পরিপূর্ণ দ্বীনের মাঝে একটি নতুন সংযোজন ছাড়া আর কিছুই নয়। এর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। বর্তমান যুগে মানুষ নানা প্রকার পাপাচারে লিপ্ত -এ কথা নিঃসন্দেহে সত্য। পাপাচার পরিত্যাগ করার জন্য কুরআন ও হাদীসে বহু আলোচনা হয়েছে। নামায-রোজা তথা সকল প্রকার ইবাদত সঠিকভাবে আদায়ের ব্যাপারে পূর্ণ তাগিদ এসেছে। সুতরাং মানুষের হেদায়াতের জন্য কুরআন-হাদীস কি যথেষ্ট নয়, যে এ ধরনের মিথ্যা একটি অছিয়ত নামার মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েত করতে হবে?

পরিশেষে সকল মুসলমানের নিকট আমাদের আবেদন- আসুন! জীবনের সকল ক্ষেত্রে এক আল্লাহর নিকট সম্পূর্ণ রূপে আত্মসমর্পণ করি। যাবতীয় প্রার্থনা তাঁর কাছেই নিবেদন করি। সব কিছু পরিত্যাগ করে কুরআন-হাদীস আঁকড়ে ধরি। আল্লাহ্‌ এবং ত্বদীয় রাসুলের হেদায়েতকে সর্বোŽচ্চ সম্মান দেই। আর ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্রকে বানচাল করার জন্য সঠিক ইসলামী শিক্ষা অর্জন করে ঈমানকে মজবুত করি।

হে আল্লাহ্‌! তুমি মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সার্বিক উন্নতি দাও। তাদেরকে হক পথে পরিচালিত কর। এবং সকল প্রকার পাপাচার থেকে তওবা করার তাওফিক দাও। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুল কারী এবং সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমীন ॥

দ্বিতীয় ঘটনা:

‘কাফনে জড়ানো সাপ’ সম্পর্কিত ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন

পত্রিকান্তরে প্রচারিত (নামায ত্যাগকারীর শাস্তি স্বরূপ) কাফনে জড়ানো অজগর সর্প সম্পর্কিত ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার উজ্জ্বল প্রমাণ ইহাই যে, কে এই সংবাদ পরিবেশন করেছে তার কোন হদীস পাওয়া যায় না। এত বড় মশহুর ঘটনা ঘটবে অথচ তার প্রত্যক্ষদর্শী অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি হবে ইহা রূপকথা বই আর কিছুই নয়। ইহা বানোয়াট হওয়ার আরও একটি প্রমাণ হল-কোন কোন বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, অজগরটি কবরে পাওয়া গেছে। আবার কোন বর্ণনায় এসেছে যে, অত্র সাপটি মসজিদে নববীর নিকটে কাফনের মধ্যে পাওয়া গেছে .. ..। প্রকাশ থাকে যে, এ ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে সৌদি আরবের ‘আল-মাদীনা’ নামক একটি দৈনিক পত্রিকা বিবৃতিও প্রদান করেছে। পরিশেষে এ সম্পর্কে সৌদি আরবের মান্যবর মুফতি শাইখ মুহাম্মদ বিন ছালেহ্‌ আল উসাইমিন যে ফতোয়া প্রদান করেছেন এখানে বাংলায় তা অনুদিত হল:

“মৃত লাশের সাথে জড়িত থাকা অত্র অজগর সাপটির ছবি (যার পিছনে এই দাবী করা হয়েছে যে ইহা ছালাত ত্যাগ করার শাস্তি স্বরূপ) প্রচার করা জায়েজ নয়। কারণ ইহা একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কর্তৃক পরিবেশিত সংবাদ। তাছাড়া কুরআন-হাদীসে এবং বিদ্বানদের কথায়- ছালাত ত্যাগ ও তাতে অলসতা করা থেকে যে সতর্কীকরণ এসেছে তাই যথেষ্ট ও বেনিয়াযকারী ঐ সংবাদ হতে যা পরিবেশিত এমন দূরবর্তী মাধ্যম দ্বারা যার কোন ভিত্তি নেই। আমি আমার মুসলিম ভাইদেরকে এ ধরনের ভিত্তিহীন দৃশ্য এবং অনুরূপ কিছু প্রচার করা থেকে সতর্ক করছি। আরও আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদেরকে জাগ্রত জ্ঞান সহকারে সত্য পথের আহ্বানকারীদের অন্তভুক্ত করে নেন। নিশ্চয় তিনি সর্ব শ্রোতা এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।

সীল মোহর

মুহাম্মদ বিন ছালেহ আল উসাইমিন (রাহ:)

গ্রন্থনা: শাইখ মুহা: আব্দুল্লাহ আল কাফী

সম্পাদনায়: শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী

www.salafibd.wordpress.com

2 thoughts on “দুটি ঘটনার তথ্য উদ্ঘাটন

  1. ইহা খুবই একটা গুরুত্তপুর্ণ বিষয় গতকালই আমার বড় মেয়ের ফেইস বুকে এই রখম একটা মেসেজ আসছে এবং এই মেসেজটা আমাকে দেখার জন্য বলে ছিল তাই আমি উত্তর দিয়েছিলাম ইয়া ভূয়া কিন্তু কোন দলিল ছিল না আজ এ লেখাটা পড়ে আরো দৃঢ় হলাম এবং ইহা প্রিন্ট করে তাহাকে দেখতে দিব এতে করে সন্দেহটা দূর হবে। অনেক দিন থেকেই এই রখম লিফলেট আমাদের হস্তগত হইতেছিল বার বার এতে অনেক প্রতারিত হয়েছি এই জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। জাযাকাল্লাহু খাইর।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s