ইসলামে বড় বড় নিষিদ্ধ বিষয় সমূহ, যা থেকে বিরত থাকা সকল মুসলিম নর-নারীর আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মহা বিজ্ঞ। তিনি মানুষের জন্য সেটাই নিষেধ করেছেন যাতে তাদের ক্ষতি রয়েছে। অপর পক্ষে যাতে মানবতার কল্যাণ ও মঙ্গল রয়েছে তাই আদেশ করেছেন।
নিশ্চয় মানুষের ইসলাম শক্তিশালী হয় ও আল্লাহর প্রতি ভালবাসা প্রকাশিত হয়- আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে নিজেকে বিরত রাখার মাধ্যমে- যদিও স্বীয় আত্বা তার আকাংখা রাখে। কেননা সে নিজের প্রবৃত্তির উপর আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়। অতএব ইসলামে আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক বড় বড় নিষিদ্ধ বিষয়গুলো তুলে ধরছি।
১) আল্লাহর সাথে শিরক।
২) ইসলামের কোন বিষয় নিয়ে ঠাট্রা-বিদ্রুপ করা বা তা ঘৃণা করা।
৩) আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তাতে অসন্তষ্টি বা ক্রোধ প্রকাশ করা। যুগকে গালি দেয়া।
৪) কোন হারামকে হালাল মনে করা বা হালালকে হাaরাম মনে করা। ধর্ম সম্পর্কে মূর্খতা সূলভ কথা বলা।বিস্তারিত দেখুন
৫) দ্বীনে বিদআত (নতুন ইবাদত চালু) করা। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর জন্ম দিবস পালন করা, ছালাতের শুরুতে মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা, শিয়া মতবাদ-যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিতৃব্য পুত্র আলী (রাঃ) কে নিয়ে বাড়াবাড়ি করে ইত্যাদি।
৬) নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন সাহাবীকে গালিগালাজ করা।
৭) যাদু করা, জ্যোতীবির্দা শিক্ষা বা গণনা করা।
৮) সময়ের মধ্যে সালাত আদায় না করা। (পুরুষের মাসজিদে এসে জামাআত সালাত আদায় না করা)
৯) যাকাত আদায় না করা। অর্থাৎ সম্পদের আবশ্যক অংশ দান না করা।
১০) শরীয়ত অনুমোদিত ওযর ব্যতীত রামাযানের দিনের বেলায় ছিয়াম পালন না করা।
১১) বিনা কারণে কাউকে হত্যা করা।
১২) ধর্ম যুদ্ধে শত্রুর আক্রমণ থেকে পলায়ন করা।
১৩) নারী-পুরুষে ব্যভিচার করা, পুরুষের গুহ্যদ্বারে ব্যভিচার করা, হস্ত মৈথুন করা।
১৪) নিরাপরাধ কোন মানুষকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া।
১৫) ইয়াতীম-অনাথের সম্পদ আত্মসাত করা ও অত্যাচার করা।
১৬) সুদ (যেমন ১০০ টাকায় ১০৫ টাকা আদায় করা বা দেয়া।
১৭) ঘুষ দেয়া বা নেয়া।
১৮) জুয়া খেলা।
১৯) চুরি করা। আমানত এবং কর্য নেয়া বস্তু প্রত্যার্পণ না করা, ঋন পরিশোধ না করা, এছাড়া অন্যান্য অবৈধ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করা।
২০) সম্পদের অপচয় করা।
২১) পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া।
২২) পরিবার এবং নিকত্মীয়দেরকে কষ্ট দেয়া।
২৩) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া।
২৪) বিভিন্ন স্থান ও মানুষ উপকার গ্রহণ করে এমন জায়গার ক্ষতি সাধন করা।
২৫) বিচার-ফায়সালা প্রভৃতিতে মানুষের উপর অবিচার করা।
২৬) অন্যায়ভাবে কোন পশু-পাখিকে শাস্তি দেয়া।
২৭) মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, সত্য সাক্ষ্য গোপন করা।
২৮) মিথ্যা বলা।
২৯) অঙ্গিকার ভঙ্গ করা।
৩০) দলীল-পত্র প্রভৃতি জাল করা।
৩১) ধোকা দেয়া।
৩২) খেয়ানত করা।
৩৩) গোপন বিষয় ফাঁস করা।
৩৪) হিংসা করা।
৩৫) অহংকার করা,
৩৬) ঠাট্রা-বিদ্রুপ করা।
৩৭) পরচর্চা করা।
৩৭) চুগোলখোরী করা। (গন্ডগোল বাজানোর জন্য একজনের কথাকে অন্য জনের কাছে বলা)
৩৮) গান-বাদ্য করা।
৩৯) নেশা ও মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা।
৪০) মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত, নিকৃষ্ট-খারাপ বস্তু ভক্ষণ করা।
৪১) শুকর, কুকুর, হিংস্র প্রাণী, হিংস্র পাখীর মাংস ভক্ষণ করা।
৪২) আল্লাহর নাম (তাঁর সন্তুষ্টি ছাড়া) অন্যের নাম নিয়ে যবেহ করা প্রাণী ভক্ষণ করা।
৪৩) শরীয়ত অনুমদিত সঠিক কারণ ছাড়া কুকুর পোষা।
৪৪) ক্রুশ বা অনুরূপ অনৈসলামিক কোন চিহ্ন বিশেষ গ্রহণ করা।
৪৫) পুরুষের স্বর্ণ, রেশম বস্ত্র পরিধান করা।
৪৬) পুরুষেরা পায়ের টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করা। এ ক্ষেত্রে পুরুষ নারীর বিপরীত।
৪৭) জেনে রাখুন ইসলামের মূলনীতি হল, দুনিয়ার সমস্ত বস্তু এবং সব ধরণের লেন-দেন বৈধ। এ কারণে কোনটি হারাম বা নিষিদ্ধ ইসলাম তা নির্দিষ্টভাবে গণনা করে দিয়েছে। অতএব যে বিষয়ে ইসলাম কোন কথা বলেনি তা বৈধ।
উক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও আরও বহু নিষিদ্ধ বিষয় রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ছোট-বড় সকল প্রকার অন্যায় থেকে দূরে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।

8 thoughts on “ইসলামে বড় বড় নিষিদ্ধ বিষয় সমূহ, যা থেকে বিরত থাকা সকল মুসলিম নর-নারীর আবশ্যক।

  1. আসসালামু আলাইকুম। ২২) পরিবার এবং নিকত্মীয়দেরকে কষ্ট দেয়া। এই লেখার সম্পর্কে জানতে চাই। মানে আমার মামা ও মামীরা খুবই খারাপ তাই তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো না। এখন তাদের সাথে কোন প্রকার নেই। তাহলে আল্লাহ তাআলা কী আমাদের ক্ষমা করবেন? যে মানুষ খারাপ তার থেকে দূরে থাকাই উত্তম কাজ। দয়াকরে জানাবেন কী হাদিসগুলো থেকে।

  2. আপনাকে আল্লাহ্‌ ভালো ভাবে রাখুক

    জাযাকাল্লাহু খাইরান।

  3. “৪৩) শরীয়ত অনুমদিত সঠিক কারণ ছাড়া কুকুর পোষা।”

    আমি এই বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখা চাই। যদি বিস্তারিত আলোচনা করেন তাহলে খুব খুশি হবো।

    • “৪৩) শরীয়ত অনুমদিত সঠিক কারণ ছাড়া কুকুর পোষা।”
      আমি এই বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখা চাই। যদি বিস্তারিত আলোচনা করেন তাহলে খুব খুশি হবো।

  4. Pingback: আল্লাহ্‌ কি সর্বস্থানে বিরাজমান? «

  5. সালামসহ লিখছি। “পুরুষেরা পায়ের টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করা” ব্যাপারটা বুঝিয়ে লিখবেন কি? কেননা, আমরা বেশীরভাগ মুসলিম ভাইয়েরা টাথনুর নিচে কাপড় পরিধান করি। উপযক্ত উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s