তাফসীরুল উশরুল আখীর-মুসলিমজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান সহ: সংগ্রহ করার মত বিরল একটি বই।

মুসলিম জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান সহ

বিশুদ্ধ আকীদা নির্ভর এটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বই। এতে একজন মুসলিম দৈনন্দিন জীবনে কুরআন, তাফসীর, আকীদাহ, মাসআলা-মাসায়েল ও ফাযায়েল সংক্রান্ত যে সকল বিষয়াদির প্রয়োজন অনুভব করে সেগুলো খুব সুন্দরভাবে আলোচিত হয়েছে। বইটি দু’ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে স্থান পেয়েছে সূরা ফাতিহা সহ আল কুরআনুল কারীমের শেষ তিন পারা তথা সূরা মুজাদালা (৫৮ নং সূরা) থেকে সূরা নাস পর্যন্ত মোট ৪৭ টি সূরার সরল বাংলা অনুবাদ।
আর দ্বিতীয় ভাগে একজন মুসলিমের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ  বিভিন্ন বিধি-বিধান আলোচিত হয়েছে। যেমন:

  • তাজবীদ তথা বিশুদ্ধ রূপে কুরআন পাঠের নিয়ম-কানুন।
  • আকীদা বিষয়ক অতি গুরুত্বপূর্ণ ৬২টি প্রশ্নোত্তর।
  •   তাওহীদ বিষয়ক একটি অন্তরঙ্গ সংলাপ।
  •  ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ এর সারগর্ভ ব্যাখ্যা।
  • পবিত্রতা তথা পানির বিধান, ওযু, গোসল, তায়াম্মুম, মোজার উপর মাসেহ, মহিলাদের হায়েজ, নেফাস, রক্তপ্রদর রোগ ইত্যাদি মাসায়েল।
  • বিভিন্ন প্রকার নামাযের বিস্তারিত বিধি-বিধান। 
  • যাকাতের বিস্তারিত আলোচনা।
  • রোযার মাসায়েল।
  • হজ্জ ও উমরার প্রয়োজনীয় হুকুম-আহকাম।
  • বিবাহ, তালাক, ইদ্দত ইত্যাদি।
  • কসম ও কাফফারা ইত্যাদি।
  • মান্নত, যাদু-টোনা, ঝাড়-ফুঁক।
  • জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দুয়া ও জিকির (অর্থ সহ)।
  • ৬৯টি নিষিদ্ধ বা হারাম বিষয়ের আলোচনা।
  • আখেরাতের বিভিন্ন ধাপের একটি বিবরণ।
  • সর্বোপরি সচিত্র সহ ওযু ও নামায শিক্ষা।

মোটকথা, বইটি প্রতিটি মুসলমানের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ।
বইটি আরবী ভাষায় প্রস্তুত করেছেন একদল অভিজ্ঞ আলেম এবং গবেষক। বাংলায় অনুবাদ করেছেন বিশিষ্ট দাঈ ও গবেষক শাইখ মুহা: আব্দুল্লাহ আল কাফী। তাফসীরটি বাংলা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এ বিশাল প্রকল্পটি পরিচালনা করছে: সউদী আরবের রিয়াদে অবস্থিত ওল্ড সানাইয়া দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৭৯।

এই তাফসীর প্রকল্পটির মূল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে এখানে ক্লিক করুন।

 

4 thoughts on “তাফসীরুল উশরুল আখীর-মুসলিমজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান সহ: সংগ্রহ করার মত বিরল একটি বই।

  1. আব্দুল্লাহ হাদি ভাই, আমি (ইমাম মুক্তাদীর উচ্চঃস্বরে “আমীন” বলা প্রসঙ্গে) লিখেছিলাম, কিন্তু একজন কিছু বিষয় মন্তব্য করছেন, উনাকে উত্তর দিতে হবে, দয়াকরে আপনি নিচের বিষয় গুলোর উত্তর আমাকে দিন, আমি উনাকে পোস্ট করে দিব।

    পথের শেষ কোথায় লিখেছেন : সালাম। এটা তো অনেক পুরানো মতভেদ। নবীজি (স.) জীবনের একটা পর্যায়ে উচ্চস্বরে বলেছেন, অন্য পর্যায়ে মনে মনে বলেছেন। এটা নিয়ে এত মাতামাতি করার কি আছে ? আপনার ভাল লাগলে যেভাবে খুশী বলেন। যে কোন বিষয় বর্ণনা করার আগে ভালভাবে জেনে বলুন, এমনকি হাদীস বর্ণনা করার সময়ও। কারন কোন হাদীসটি আগে বর্ণনা করা আরেকটি হাদীসটিকে রহিত করেছে আপনি জানেন না।
    আমি আপনার কাছে শুধু একটি প্রশ্ন করব, রেফারেন্স সহ বলবেন। বিদায় হজ্জ্বের পরে নবীজি (স.) ৮১ দিন বেচে ছিলেন। তখন তিনি আমীন জোরে বলেছেন নাকি আস্তে বলেছেন ? এসময় ইসলাম পূর্ণতা পায়। আপনি কোন ইসলাম মানবেন ? নবীজির(স.) শেষ জীবনের পরিপূর্ণ ইসলাম নাকি জীবনের কোন এক পর্যায়ে পালিত ইসলাম,যা পরবর্তীতে পরিবর্তিত হয়েছে?
    আপনার উত্তরের প্রতীক্ষায় থাকলাম।
    হানাফী মাজহাবের অনুসারীরা অবশ্য শেষেরটা মেনে চলেন। আপনার ইচ্ছা হলে আপনি অন্য মাজহাব মানতে পারেন, কোনটিই কোনটির সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কিন্তু ভাই আপনি আমি হঠাত করে মন্তব্য করার কেউ নই। আপনি জানেন না প্রতিটি মাজহাবের ঈমাম গণ পৃথক পৃথক ভাবে কত বড় আলেম ছিলেন।তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন নি। আর আমরা পূর্বাপর সম্পর্ক না জেনে দুই একটি হাদীস পড়ে তা দিয়ে অনেক বড় বড় মন্তব্য করি।এতে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

    • মুহতারাম, আব্দুর রউফ ভাই,
      আপনার প্রশ্নকারীকে তার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন এভাবে:
      রাসূল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ যামানায় আমীন জোরে বলতেন না এমন কোন প্রমাণ আপনার কাছে আছে কি? কোন কিছু বলতে হলে অবশ্যই তার প্রমাণ পেশ করা প্রয়োজন। যদি আপনি একটি সহীহ হাদীস পেশ করতে পারেন যে, তিনি বিদায় হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর আর জোরে আমীন বলেন নি তাহলে নি:সন্দেহে সেটাই গ্রহণ যোগ্য হবে।
      দয়া করে আপনার কথার স্বপক্ষে দলীল পেশ করুন। (আমি আপনার দলীলে অপেক্ষায় রইলাম।)
      আমি যে সকল হাদীস উপরে উল্লেখ করেছি সেখানে জোরে আমীন বলার কথা স্পষ্ট। মানসূখ (রহিত) হওয়ার কোন প্রমাণ নাই। সুতরাং যতক্ষণ দিন, তারিখ সহকারে রহিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাবে না উপরোক্ত সহীহ হাদীসগুলোই গ্রহণযোগ্য হবে।
      আমি অবশ্যই পূর্ণ ইসলাম মানতে চাই। তাই আপনার দলীল পেশ করলে আমি সেটা বিনা দ্বিধায় মানতে প্রস্তুত।
      মহামতি ইমামগণ নি:সন্দেহে দ্বীনের বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। কিন্তু কেউই এ কথা বলে যাননি আমি যে কথাটা বললাম সেটাই সঠিক। এর মধ্যে কোন ভুল নাই। বরং সকলেই কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণের কথা বার বার বলে গেছেন। আরও বলেছেন “আমার কথার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথার বৈপরিত্য দেখলে আমার কথাকে দেয়ালে ছুড়ে মারবে।”
      মতবিরোধ যুগে যুগে ছিল। মতবিরোধ থাকাটাও দোষণীয় নয়। কিন্তু তারা কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ প্রকাশ করেন নি। বরং একজন আলেম আরেকজনের মতকে দলীলের আলোকে খন্ডানোর চেষ্টা করেছেন। এটা সকল যুগেই হয়েছে। সুতরাং দলীল দিয়ে মাসআলা মাসায়েল আলোচনা করা দোষণীয় নয়। কারণ, এর পেছনে উদ্দেশ্য হল, সঠিক সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া।
      আসুন আমরা মাযহাবের ইমামগণের মতামতের পরিবর্তে তাদের দেখানো নীতি অনুযায়ী কুরআন ও সহীহ হাদীসকেই আমাদের যাবতীয় আমলের ভিত্তি বানাই। আল্লাহ আমাদের তাওফীক দান করুন।

আপনার মতামত বা প্রশ্ন লিখুন।

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s